Tuesday, 24 November 2020

শ্মশান ঘাঁটের পর্ণ - চিল মাছের ছুরি

১)

রাম মন্দিরে রাম, মসজিদে খোঁদা থাকেতো?

রথ তিনতলা হলে জগন্নাথ থাকে?
সবই আফিম? ওঁ মাটি?

জপ করছি শ্রম ও কলম

ম তে মসজিদ
ম তে মা
ম তে মন্দির
ম তে মানুষ।

ওঁ ম। ঘরে একদানা বলতে পঞ্চরিপুর ভাইয়ের মাথা।

আর, আর মন্দিরে কেউ থাকে যে অন্ধকার দূর করে।

২০.০৪.১৪২৭

২)

মানুষের দুঃখের শেষ নেই, কারো ছাদবাগান নেই, তো কারো পা নেই, কেউ কমদামি কাপড় পরে,তো কারো চাকরি নেই

কেউ গল্প লেখে সেও দুঃখের, কেউ কবিতা। কারোর একটুর জন্য ৫০ লাখ টাকার এফ ডি আর হচ্ছে না- এতেও দুঃখ।কারো এক ছেলে বৌটা সব নষ্টের গোড়া-এটাও দুঃখের।

আগে ভাবা হতো দুঃখ জমলে ধর্মশালায় যাও, এখন হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি খাও, যাদের সুগার দুবাইয়ের ভিসা নিয়ে বারবার শিখুন হাতসাফাই ৫২ কার্ডে ৫৩ খেলা।

দুঃখ ও জল এমনই বিশেষ্য, কাটলে দু ভাগ হয়না।

২২.০৪.১৪২৭

৩)
এই বয়সে প্রেম, বান্ধবী থাকা, কফি খেতে চাওয়া, এসবকে লোকে মিথ্যা ভাববে,

ওরা বলবে শালা ভীমবুড়ো!
সত্যি কেউ যদি একা হয় ফ্ল্যাটভর্তি মানুষে, অনেক জীবনের ভীড়ে,এই বাঙলাদেশে

তবে খুঁজে বেড়ালে সেটা দোষের বলে অন্ধকার করে দেয়া অন্যায়।

বিছানার উপর কারো পাশে দংশন করলে, বন্দনা করলে, ওষ্ঠাগত হলেও একা। হুট করে আলো নিভিয়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরলেই একাকিত্ব কাটেনা,বরং হুহু করে কোনো আগুন জ্বলে উঠলেও কাটেনা কোনো ওঁ শব্দের একাকিত্ব।

একাকিত্ব এক স্যাটেলাইট, কফি না খেয়েও অমরত্বের আমন্ত্রণে নিজেকে অকৃপণ চিরকুমার ভাবে।

০৪.০৫.১৪২৭

৪) 
ছেনাল অন্ধকার পান কোরছি। নুপুর খোলো। কর্পোরেট আলো সহ্য হয়না আমার, আজকাল।

একলা থাকো,
কৃষ্ণকথা শুনো কিংবা একঝাঁক রথের চাকা তুলো পরনির্ভরশীল লজ্জাও লোকাল পাখির বাসা করে তুলে।

প্রোরোচিত করো চক্রবর্তী সেসব কালোটাকার বিধবাকে।অথবা বিয়ের পাত্রের চোখ।

বুকের ভেতর কত হাঁকডাক নামধরে, দেনাশোধ করার আগে জার্সি খুললে জন্মপরিচয়পত্র ভূমিকে উর্বর করে তুলে।

০৪.০৫.১৪২৭

৫)
যাদের সাথে হাঁটতাম, দুরত্ব বেড়েছে
ঝুপ করে রাত নামে

টুপ করে ভোর হয়
রাত অনেক হলে শব্দগুলো কলসীর দানা হয়ে উড়ে যায়।

দরজা বন্ধ করার এক শব্দ
খোলার আরেক।

শব্দেই বোঝা যায় ঘর খা খা করছে
কেউ বিচ্ছিন্ন
কেউ ভরাট

শব্দের ভার এক কারুকাজ,মকর রাশির যাযাবর হাঁসের সন্তান।

১০.০৫.১৪২৭


৬)
রান্না করতে গেলে ভাষার স্বাদ পেয়ে যাই, স্কুল বালিকাদের চুমু ভেঙেইতো নদী ও নদের উৎপত্তি নিয়ে ভাটির দেশে পুরোহিত পুজা দিতে যায়।ভাত তুলা রাশির দন্ত্য ন, ভেঙে গিয়ে জরায়ু গঠন করছে জীব ও জন্মের। আযান এক একলা রুচি সবাইকে সুখী হওয়ার গল্প শোনাচ্ছে। শ্যাওলা চাষী রুবি পাথরের ভবিষ্যত বলে দিচ্ছে। টিয়া পাখির মাথা জুড়ে একগ্রাম দার্শনিক সোনা সে বেচতে পারে। মায়ের পেটে কাতলা মাছ জিইয়ে রাখলে ৮৪ লক্ষ যোনি ভ্রমনের ভয় কেটে যায়।

২৩.০৪.১৪২৭


৭)

তোমার জড়ায়ুর আড়ালে দখল হয়ে গেলো জ্যামিতি,নারীঘটিত অভিধানে সুফী শব্দটা কেটে দিয়েছি। নিতম্বে মঙ্গলপ্রদীপ

তুমি আমার এক ন্যাংটো ঈশ্বরী- অনার্য রাগের বৈষ্ণবী


তোমার নাভি এক পুরোনো পিয়ানো
পোষা ফ্রিজে জমা করা যাচ্ছেনা অস্ত্র,কারা যেন মদ খেয়ে ফেলে গেছে বিশ্বাস

কোলে করে নিয়ে বসে আছি

জরায়ুমুখে বৈরাগ্য, জ্বালানী ফুরিয়ে যাচ্ছে,যাচ্ছি আমি একটি কুকুরের পেছনে।



তোমার ব্লাউজে আমার জন্য কবিতা লেখা নেই
আমি সংবাদকর্মী নই
আমি পিকেটারও নই
আততায়ীও নই

আমি মাথা নিচু করে থাকা এক প্রেমিক
আমি মাথা নিচু করে থাকা এক কবি
তোমার ব্লাউজে অল্প বেতনের ফুলগাছ লাগানোর কাজে ব্যস্ত।

তোমার কাছে দীর্ঘতম ফুটপাত আছে। নাভিতে কৃষি বিপ্লব হয়ে যাচ্ছে, জরায়ু জুড়ে থানা পুলিশের ছায়া। ঘামে আমি রুমাল রোপন করি।

আমাদের দাম্পত্যে প্রজাপতির জন্য লালশাক ও অকৃতজ্ঞ চাঁদের নারীসঙ্গ বিষয়ক আলোচ্যসূচী থাকবে।

তোমার পেটে লাথি দিয়ে রোপণ করে বিলবোর্ড ও স্লোগান, লেখা আছে 'প্রজাপতিরা ক্লাস সিক্সে পড়ে'

নিতান্ত ঠাট্টা করে এড়িয়ে যাচ্ছে তোমার ঝলমলে কান্না, আমার বাজারের ব্যাগ নিয়ে মানুষের মাথা আনতে যাচ্ছে ব্যক্তিগত পরনারী।

তোমার লিপস্টিক পাঠ নিতে যাচ্ছে মানুষ উচ্ছেদের কথার।


অনেক রাতের খেলা শেষে ফুটপাত থেকে উঠে আসে দুপুর।
শরীরের নিরিবিলি জায়গাটির নাম শিরিশতলা,
অজস্র কৃষ্ণচূড়া চুরি যায়,
টেলিগ্রাম আসে।

এদিক দিয়ে শুধু শহরজুড়ে হাততালি দেয় একদল পোড়ামুখো হনুমান যারা রক্ত ও ফেস্টুনের পার্থক্য নিয়ে অভিনন্দন জানায় মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে।

২৫.০৪.১৪২৭


৮) 
ক)ভাতের গন্ধ স্তন পোড়া গন্ধের অধিক,ময়ূর বানিয়ে দেয়, ময়ূর ব্যাগভর্তি দেশভাগের রঙ নিয়ে ছুটছে।
খ)কাঁচা আমের গন্ধ মায়ের খোঁপার বারুদ হয়ে যাচ্ছে।
গ)লেবু ফুল খোঁপার ছোটো সন্তানের প্রেমিক।
ঘ) প্রশ্রয় পেলে সাঙ্গু নদীর কোমড় হয়ে যাও।হারমোনিয়াম নদীর জন্মান্তরবাদের ব্যাপারে গানের হাসপাতালে ড্রইং করছে।
ঙ) সেলাই স্কুলে ফেলে এসেছি জন্মের উচ্চতা। জন্ম বিষয়ে মলবেধে লেকচার দিচ্ছে মহাকরণ। তরুণ শিক্ষকরা মুষলধারে  শ্বাসকষ্টে ভুগছে।
২৪.০১.১৪২৭

৯)
তোমার স্টেথোস্কোপ পৃথিবীর যোনিপথ
সে তুলে নেয় হৃৎপিণ্ডের ভার
সেখানে লেখা থাকে কাঁধ ও ধানক্ষেত।
ভুলকে তুলে নিয়ে নেশা করে ফিরছে আমার কাঁধ সেই
বেশ্যাপাড়া থেকে
বমি করে দিচ্ছে চাঁদ।
সব মানুষ একে একে লাইন ধরে ফুল তুলতে যাচ্ছে অথচো শহরের বাসা বাড়ির দরজা জানালা গুলো জোৎস্না খেতে পারছে না।

০৫.০৫.১৪২৬

১০)
পালিয়ে এসে শুয়ে থাকো আমার সাথে,
আমি মানে আমি নই
যেমন কামারের চাঁদ।
কথা দিচ্ছি, রতিকলা জানিনা
শুধু চেয়ে নিই ছোবল, যেহেতু তুমি আমার নিজস্ব দ্রৌপদীহাঁস।
০৪.০৫.১৪২৬


১১)
তুমি আছো বলে আমি অনাহারী কাক,
ভালোবাসি পৃথিবীর নিম্নভাগ, ভাজ করা ফুসফুসের পিচ্ছিল ধর্ম , আগুন জ্বালাতে ভালোবাসি বলে সর্বগ্রাসিনী আলগা ধোয়ায় ৩২ নং সড়ক। হৃদয় মেলে ধরলে, ফুল চাষ নিয়ে পালিয়ে যায় ম্যাডোনার ভ্যান। 
বিংশ শতাব্দী তো কবেই গেছে তবুও ফুল কেন মোমের মতো গলে পরে?


০৫.০৪.১৪২৪


১২)

*
স্বীকৃতি নেই,সন্ধ্যা মাখানো আমের আচারও নেই।

বর্ষা নেই, কমলার খোসার মতো জীবন ছড়িয়ে বিছিয়ে দিলাম ২০২১ সালে। স্বীকৃতি নেই।খাবারের টেবিলে ছুরি আছে।


১১.০৫.১৪২৭

*
তোমার বুকে কতগুলো চাকা, যেমন তোমার পিতা, তোমার পাখি, তোমার মা, তোমার খুঁচরো পয়সাগুলো।

তোমার ভেতরে চতুর্দশ বৃত্ত, ১৮০ ডিগ্রীর শ্যাম বর্ণের কতগুলো মেয়ে পাহাড় থেকে নেমে গোলাপ হয়ে রাম্তায় এক্সিডেন্ট করেছে। তারা হয়ে গেছে ছাপাখানা।

কবিতা তোমার কোন শ্রেনীতে পড়ে?

১৫.০৫.১৪২৬


১৩)

*
তার মানে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না?
আমি তো জিজ্ঞেস করিনি আজ কি রঙের অন্তর্বাস পরেছো,

তোমার অন্তর্বাসে থাকে তীব্র ধানক্ষেতের আর্তি?

আমি তো প্রশ্ন করবোই
আজ যে রোদ খেয়েছো তা কি জাতিগত?

তুমি কি জানো তোমার নগ্ন সময়ে আমি জানালা দিয়ে ক্ষুধাদের স্বাগত জানাই

তাদের বলি 'আসছে নতুন শিশু'

১৬.০৫.১৪২৬


*
উঠানের বাম পাশে প্রতিদিন চাঁদ উঠে
রাত গভীর হলে বাবার বাম কাঁধের মতো নুয়ে পড়ে।

মা বলতেন বাবার বসন্তকালে পায়রার রক্ত উষ্ণ হতোনা

০৭.০৫.১৪২৬

*
মায়ের লালামুখী সিঁদুর, সকালের কপাল দেখে লোভী সূর্যোদয় ভেঙে দিচ্ছে আমাদের উড়ালসেতুর আড্ডা।

০৭.০৫.১৪২৬

*
আমার কোনো বন্ধু কুকুর নেই, কুকুরের মতো ছটফট ব্যাপারটা আমি বুঝিনা, সঙ্গীর সাথে রাস্তায় সঙ্গম। ঘোর বর্ষায় কুকুর জীবন থাকলে ভাদ্রমাসকে ফলনশীল করে তোলা যায়।

০৭.০৫.১৪২৬


চিত্রঋণঃ- Nick Lord - Cardiff,Wales 





No comments:

Post a Comment

Featured post