Wednesday, 22 April 2020

জরাসন্ধ- দ্য মেয়র, লিভ ইন দ্য বেডরুম এ্যাট ব্রোথেল



১)
ভালোবাসি ব্যাপারটা জোড়া শরীরে  মূলতো
ভালোবাসা মানে অপরাধে ভোগা গণিকার আত্মকথা
ভালোবাসলে কত রাত ঘরে মদের বাসি গন্ধের নিঃসাড় মাংস!

এসো বাগানে,
প্রার্থণার ভঙ্গিতে অন্তত কেঁপে উঠো,
ঝুঁকেতো দেখো উন্মাদ যোণীর অভ্যন্তরে আত্মীয়রা প্রতিহিংসায় চিৎকার করছে।

নিষিদ্ধ শহরে  চাষ করতে হয় লবনের হারমোনিয়াম
বালিকার ওড়নার  পিতাফুল ভালোবাসতে পারলে তবেই আত্মহত্যার অধিকারে মিছিলের শোভাযাত্রা হয়।


শোন,
একটি মেয়ে অর্থাৎ আমার প্রেমিকা পেটে ধরেছে যেখানে মা হয় সেখানে জড়িয়ে ধরছি
আর দরজা দিয়ে শিশু বের হয়ে এসে বলছে
'সুপ্রভাত'
জন্ম নিলেই বলতে হয় 'আমিই সেই'



২)
প্রতি সেজদায় সোমরসে মত্ত থাকি, ঈশ্বর কাঁধে বসে রাষ্ট্র চুরির পরামর্শ দেন। আমি নারী চুরি করতে চাই প্রভু!
ঈশ্বর আফিমের মতো সুন্দর মেয়েটিকে দেখিয়ে দেন।
তর্ক করি
তর্ক করতে ক্লান্ত লাগে, তবুও করি।
নর্তকীর মতো কোমর বাঁকা করে নেমে আসছে সুনামি
মরুভূমিতে 'ভিজে তৃষ্ণা নিবারন করো' ঈশ্বর বললেন।

'হে ঈশ্বর আমার প্রেমিকার পিঠে সূর্যদেবতার অশ্বফল ও জবা ফুল এঁকে দিলেন'
আমি আগুন পোহাবো কোথায়?
আমি আমার অসুখ সারাবো কোথায়
আমার গা ছমছম করলে আমি যে তার কাছেই অসুখ সারাতে আসি
ঈশ্বর বললেন 'প্রেম এক ষড়যন্ত্র'

৩)
আসুন প্রার্থনা করি
প্রার্থনার মতো উত্তম মদ আপনি পাবেন না
পাটক্ষেতে গেলে তীব্রগন্ধ লাগে তখন বুঝতে পারি প্রার্থনার সময় হলো,
পানির কাছে গেলে তীব্র ঠান্ডা লাগে তখন বুঝি প্রার্থনার সময় হলো
অশত্থ বৃক্ষের কাছে গেলে দেখতে পারি ছায়া চাঁদের বাচ্চা তখন বুঝি প্রার্থনার সময় হলো


প্রার্থনা হলো অজ্ঞানীদের মুখোশ,
ঈশ্বর বললেন ' প্রার্থনার মতো উত্তম মদ আর হয় না'


প্রার্থনা আমি কখনো করিনি, হাত উঁচু করতে আমার ভালো লাগে না,
হাঁটু মুড়তে আমার ভালো লাগে না।
নারকেল গাছ কখনো হাঁটু মুড়ে না তবুও সে শীতল জল দেয়,
সূর্য কখনো হাত তুলে না তবুও সে উত্তম তাপ দেয়
ভূমি তার শরীরকে জাগিয়ে রাখে তাতেই বৃক্ষজন্মে


ঈশ্বর বললো 'হাত তুলো না, পা মুড়ো না, মাথা নুইয়ে দিও না,
আমার যখন তৃষ্ণা লাগবে আমাকে ভিজিয়ে দিও
আমার যখন ক্ষুধা লাগবে দু মুঠো অন্ন দিও
শীতে যখন বস্ত্র লাগবে
অসুখে যখন ওসুধ লাগবে
তাতেই আমার চলবে'
'প্রার্থনার মতো উত্তম মদ আর হয় না'



৪)
আসুন, সম্পর্ককে আরো একটু সহজ করি
যেমন প্রসবের ব্যথা হলে ব্যথাকে সহজ করতে চাই
কেউ আমাদের ছেড়ে গেলে সহজ করতে চাই
বিছানাতে প্রেমিককে নিয়ে সহজ হলেন।


বেশ্যার বুকে খদ্দের তেমন একটা সহজ হয়না, বেশ্যাকে কখনো "ভালোবাসি" বলে সহজ হয় না!ব্যাপারটা এমন নয় যে বেশ্যা এক ভুল মানুষ!


সকল মায়ের নাভিতে বাবারা সহজ হয় না।
তাই মায়েরা পালিয়ে যায় বাবাদের বাহুর কাছ থেকে,অচেনা জলের পেখম ভেঙে যেন জানালা খুললেই তিতাস লোকাল!


দু হাতে স্তন তুলে দিয়ে বলে না 'আজ আর আত্মহত্যা করবো না'।
আসুন সহজ হয়ে হাঁপিয়ে বলি 'তুমি তো স্ত্রীলোক নও প্রিয়তমা
তুমি আমার ঘোর নও' ' তুমি আমার বার্গার নও'।
আমরা সহজ হলে আমাদের দুঃখ থাকবে না
আমাদের কেউ খুন করবে না
আমরা খুনী হবো না।


মানুষ যত সহজ হবে ততই সে পরিনত গোলাপ, ততই সে জীবন্ত, ততই সে প্রভুত্ব চাইবে না।
আসুন আমরা সহজ হই।



৫)
শোও
খুলে দাও শরীর
গরম ভাতের ধোঁয়া উঠুক
নিড়ানি চালালে কেঁদে বলো না সইতে পারছি না।


চিৎকার করো না,
যখন শীত নেমে আসে তখন ক্রীতদাসের মতো কুচকে যায় চামরা।
শরীর এক কলকে হয়ে উঠে।


শান্ত হও,
শরীরের দক্ষিন দেশ জুড়ে সাগর, উত্তরে পর্বত।
সাজানো গোছানো আলপনা দিয়ে যুদ্ধে পাঠাও। দরজায় ধাক্কা দিলে বের হবে ভাঙা ময়ূরের পা। সিঁদুরে কৌটো।


শরীরে উঠো, শিখরে
কষা মাংসের কৌস্তুভ,  মশ, ফার্ণ নাগলিঙ্গম পাহাড় ডিঙিয়ে নেমে আসছে দেব ও কচি নারকোলের সরলতা। শরীরে সিঁদুর বিধবা হওয়ার আগে স্নানে ঢুকে পড়ো, তন্ন তন্ন করে খুঁজো শরীরে কোথায় কতটুকু আঙুল ডুবেছিলো।



                                                                                                                                 চিত্রঋণ- পাবলো পিকাসো

No comments:

Post a Comment

Featured post